নেপালে হিমবাহ ধসে আকস্মিক বন্যা, নিহত ৮০০ ছাড়াল
ত্রিশূলী ৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে পড়া শতাধিক শ্রমিককে উদ্ধারে পাইপ ঢুকিয়ে বাতাস পাঠাচ্ছে নেপালের সেনাবাহিনী।
· 2 countries

হিমবাহ ধস ও পানির প্রাচীর
বুধবার সকালে চীন-নেপাল সীমান্তে একটি হিমবাহ ধসে পড়ায় পানি ও ধ্বংসাবশেষের বিশাল স্রোত নিচের দিকে নেমে আসে, জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে।
দ্য ডেইলি স্টার লিখেছে, বরফমিশ্রিত ওই স্রোত বড় বড় পাথর ঠেলে নিয়ে উত্তর থেকে দক্ষিণে নেপালের ভেতর দিয়ে পথ কেটে যায়। প্রায় ১৫০ পরিবারের বসতি ধুংগে গ্রাম এখন কাদা আর পচা গন্ধে ভরা জলাভূমি।
গার্ডিয়ান জানিয়েছে, রোববার নেপাল নতুন করে সতর্ক করে বলেছে রাসুয়ায় ভোটেকোশি নদীর পানিপ্রবাহ আরও বেড়েছে, তাই উদ্ধারকারীদের সাবধান থাকতে বলা হয়েছে।
হতাহতের সংখ্যায় অমিল
হতাহতের হিসাব নিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য এক নয়। বিবিসি নিউজ বলছে নেপালে অন্তত ৭৯৪ জন নিহত এবং ২ হাজার ৫০০-র বেশি নিখোঁজ।
গার্ডিয়ান রোববারের হালনাগাদে নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে মোট ৮০৪ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়ে বলেছে, নিখোঁজের সংখ্যা ৩ হাজার ৪৮, যাদের মধ্যে বহু বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। একই প্রতিবেদনে নেপালের হালনাগাদ মৃতের সংখ্যা ৭৮৮ বলা হয়েছে।
সিএনএন-ও পুলিশের বরাতে নেপালে অন্তত ৭৮৮ জনের মৃত্যুর কথা বলেছে। চীনা কর্তৃপক্ষের হিসাবে তিব্বতে মৃত ১৬ জন ও নিখোঁজ ৫৪৬ জন, যাদের ২৬১ জন বিদেশি, তার মধ্যে ১০৪ জন নেপালি, ৪৯ জন ভারতীয়, ৩৩ জন লাটভিয়ার, ১৮ জন যুক্তরাষ্ট্রের ও ১৫ জন ব্রিটিশ নাগরিক।
সুড়ঙ্গে আটকে পড়া শ্রমিক
সবচেয়ে কঠিন উদ্ধার তৎপরতা চলছে ত্রিশূলী ৩এ ও ৩বি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে। গার্ডিয়ান জানিয়েছে, সপ্তাহান্তে নেপালের সেনাবাহিনী ত্রিশূলী ৩এ-এর সুড়ঙ্গে একটি পাইপ ঢোকাতে সক্ষম হয়েছে, যেখানে শতাধিক শ্রমিক আটকে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং বলেছেন, ছোট ফাঁক দিয়ে বাতাস পাঠানো শুরু হয়েছে এবং এবার খননকাজ শুরু করে ভেতরে উদ্ধারকারী দল পাঠানো হবে। বিবিসি বলছে, চীন ও ভারতের বিশেষজ্ঞসহ উদ্ধারকর্মীরা যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে এখনো কোনো সাড়া মেলেনি।
নেপালের দুর্যোগ কর্তৃপক্ষের হিসাবে নিখোঁজদের মধ্যে ৯৩৩ জন জলবিদ্যুৎকর্মী। সিএনএন জানিয়েছে, বিভিন্ন প্রকল্পের ২৭৯ জন শ্রমিক উদ্ধার পেয়েছেন বা নিজেরাই কাদা ঠেলে বেরিয়ে আসতে পেরেছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ও বেঁচে ফেরা মানুষ
নেপালের শিক্ষা ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত তিন জেলায় অন্তত ১৯টি বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, নয়টি পুরোপুরি ধ্বংস। দুই শতাধিক শিক্ষার্থী নিখোঁজ এবং প্রায় ২০ জন ভেসে গেছে বলে মন্ত্রণালয়ের মূল্যায়নে বলা হয়েছে।
রাসুয়া ও নুওয়াকোট জেলায় ক্ষতি সবচেয়ে বেশি। রাসুয়ার বাসিন্দারা বলছেন, চার দিনের বেশি সময় পরও তারা বিচ্ছিন্ন এবং কোনো ত্রাণ পাননি।
সিএনএন জানিয়েছে, ছয় বছরের মনীষা মগর ধসে পড়া ভবনের নিচে ৬০ ঘণ্টা আটকে থাকার পর উদ্ধার হয়ে বাবা-মায়ের কাছে ফিরেছে। গার্ডিয়ান বলছে, নেপালে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৭০০-র বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং শনাক্তের জন্য ডিএনএ নমুনা নিয়ে শত শত মরদেহ দাফন শুরু হয়েছে।