নবম পে-স্কেল অনুমোদন, বেতন বাড়ছে ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদিত নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর হবে দুই অর্থবছরে ধাপে ধাপে।

মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত
বেসামরিক সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো, অর্থাৎ নবম পে-স্কেল অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। সচিবালয়ে সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই প্রস্তাব অনুমোদিত হয় বলে প্রথম আলো ও বিবিসি বাংলা জানিয়েছে।
গ্রেডভেদে মূল বেতন বাড়বে ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত। বৈঠক শেষে অর্থ মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানায়, পরে তথ্য অধিদপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
সশস্ত্র বাহিনীর জন্য যৌথ বাহিনী নির্দেশাবলিও মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে। বিচার বিভাগের বেতনকাঠামো নিয়ে দুই সূত্রের বক্তব্য আলাদা। প্রথম আলো লিখেছে, বিচার বিভাগের জন্য আলাদা কাঠামো পরে আসবে এবং এ জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে; বিবিসি বাংলা লিখেছে, বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর জন্য আলাদা কাঠামোর অনুমোদন মন্ত্রিসভা দিয়েছে।
গ্রেড ও অঙ্ক
নতুন কাঠামোতে আগের মতোই ২০টি গ্রেড থাকছে। সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকার বদলে হবে ২০ হাজার টাকা, যা ১৪২ শতাংশ বৃদ্ধি।
বিবিসি বাংলা জানিয়েছে, এই গ্রেডের স্কেল ধরা হয়েছে ২০ হাজার থেকে ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত। সর্বোচ্চ প্রথম গ্রেডের নির্ধারিত বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হচ্ছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।
সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের অনুপাত ১: ১ দশমিক ৯৪৫ থেকে কমিয়ে ১: ১ দশমিক ৭৮ করা হয়েছে। নাসিমুল গনি বলেছেন, প্রথম গ্রেড থেকে ১১তম গ্রেড পর্যন্ত ১০০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি হয়েছে।
বাস্তবায়নের ধাপ
পুরো কাঠামো একসঙ্গে কার্যকর হবে না। সবকিছু কার্যকর ধরা হয়েছে গত ১ জুলাই থেকে, তবে মূল বেতন দেওয়া হবে ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে তিন ধাপে।
প্রথম আলো অর্থ বিভাগের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, গত ১ জুলাই থেকে মূল বেতনের ৪০ শতাংশ, আগামী বছরের জানুয়ারিতে ৩০ শতাংশ এবং আগামী জুলাইয়ে বাকি ৩০ শতাংশ দেওয়া হবে। বিভিন্ন ভাতা কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে, অবসরভোগীদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম থাকবে।
সরকার মনে করছে, ধাপে ধাপে কার্যকর করলে মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ কম পড়বে। অর্থ বিভাগ এখন প্রজ্ঞাপন ও আদেশ জারি করবে, যেখানে বেতন নির্ধারণের পদ্ধতি, ভাতা, পেনশন ও অবসর-পরবর্তী সুবিধার বিস্তারিত বিধান থাকবে।
প্রেক্ষাপট ও ব্যয়
বিবিসি বাংলা জানিয়েছে, সর্বশেষ পে-স্কেল ঘোষণা হয়েছিল ২০১৫ সালে, অর্থাৎ ১১ বছর ধরে একই কাঠামোতে বেতন-ভাতা চলছিল। ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার ২৩ সদস্যের নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে, কমিশন এই বছরের ২১ জানুয়ারি সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন দেয়।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গত ১১ জুন বাজেট বক্তৃতায় ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন। দেশে বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি চাকরিজীবী ও প্রায় নয় লাখ পেনশনভোগী আছেন, তাঁদের পেছনে বছরে ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।
নতুন সুবিধার মধ্যে প্রথমবারের মতো প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা চালু হচ্ছে, মাসে তিন হাজার টাকা। আগে শুধু পঞ্চম গ্রেডের চাকরিজীবীরা মোবাইল বিলের ভাতা পেতেন, এখন সব গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারী তা পাবেন। মোট ব্যয় কত বাড়বে, সূত্রগুলোতে তা বলা হয়নি।



